কক্সবাজারের টেকনাফ ২ বিজিবির অস্থায়ী ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে উখিয়া ব্যাটেলিয়ান ৬৪ বিজিবির ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন,ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,প্রশাসনিক কর্মকর্তা,পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাংবাদিকরসহ আরো অনেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ৬৪ বিজিবি টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
“সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী” মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যাটালিয়নটি মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, নাফ নদীর তীরবর্তী জলাভূমি এবং স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে তারা।
৬৪ বিজিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে ১৭৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১২২ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ১৭৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ইয়াবা, গাঁজা, ক্যান বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালান সামগ্রী জব্দ করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ১,৩৯০ জন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের নাগরিককে প্রতিরোধ করে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিজিবি একজন সদস্যকে বিজিবিএম পদক, একজনকে বিজিবিএমএস পদক, একজনকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এবং একটি প্রশিক্ষিত কুকুরকে বিজিবি কে-নাইন পদকে ভূষিত করেছে।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে ব্যাটালিয়নটি। দুঃস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং বন্যাদুর্গতদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও দায়িত্ব পালন করেছে বিজিবি সদস্যরা।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু সীমান্ত পাহারা দিই না, জনগণের আস্থা অর্জন করাও আমাদের লক্ষ্য। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে আমরা সবসময় প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।