শিরোনাম :
টেকনাফে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে স্মারকলিপি টেকনাফে মানবপাচার প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরও চলছে চাঁদাবাজি! ‎ টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তকরণ সভায় হামলা,চেয়ারম্যানসহ আহত অন্তত ১৫ টেকনাফে অপহরণ বন্ধের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন-অনশনে এমপি শাহাজাহান চৌধুরীর সংহতি উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, মূল্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে রওনা ১৪০ যাত্রী, পাঠানো হয়েছে খাদ্যসামগ্রী উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ ভূমিধস : মাদ্রাসার ৫ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে টানা ভারী বৃষ্টি: পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ প্রশাসনের

টেকনাফে মানবপাচার প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালা

মোহাম্মদ তোফাইল টেকনাফ কক্সবাজার প্রতিনিধি / ৫১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধ মানবপাচার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংঘবদ্ধ এই অপরাধচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মত দিয়েছেন টেকনাফ ও উখিয়ার সাংবাদিকরা।

মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশে স্থানীয় সাংবাদিকদের সক্ষমতা বাড়াতে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব মতামত উঠে আসে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে রোববার (২৬ জুলাই) টেকনাফের সেন্ট্রাল রিসোর্টের কনফারেন্স রুমে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে টেকনাফ ও উখিয়ার ৪২ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান অভিবাসনের বর্তমান প্রবণতা এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানবপাচার কিংবা মাদকের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে একদিন আমাদের সন্তানরাও এর শিকার হতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষকে সচেতন করে, ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখে এবং নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার মানবপাচারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি তুলে ধরে বলেন, মানবপাচার দেশের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনে না; বরং পাচারের অর্থ বিদেশেই থেকে যায় এবং অপরাধচক্র আরও শক্তিশালী হয়। তিনি বলেন, “মানবপাচার প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকও যদি সচেতন হন, তাহলে হয়তো একটি জীবন রক্ষা পাবে।”

প্রথম আলোর কক্সবাজার প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস রানা তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, টেকনাফ মানবপাচারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভয় পেলে চলবে না। মানবপাচারের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

কর্মশালায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কক্সবাজারের কোঅর্ডিনেটর (লিগ্যাল সার্ভিস) বিশ্বজিৎ ভৌমিক মানবপাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোর আইনি দিক তুলে ধরেন। এছাড়া মানবপাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা টেকনাফের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবের নিজের অভিজ্ঞতা শোনান।

অনুষ্ঠানে মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও অনিয়মিত অভিবাসনের পার্থক্য, বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর হয়ে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ, নৈতিক সাংবাদিকতা, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান

বিকেলে ‘সমুদ্রপথে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আরেকটি কর্মশালায় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার বলেন, মানবপাচার ও মাদকের মতো অপরাধ দমনে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।

কর্মশালায় কক্সবাজারের উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান, র‍্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা বক্তব্য দেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম টেকনাফকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ‘রেড জোন’ উল্লেখ করে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আন্তঃসংস্থার সমন্বয়, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও সেবা প্রদান এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার ও ভিডিপির সদস্যসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!