কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজের পিতাকে লুকিয়ে রেখে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে।
নিহত ব্যক্তি কালা মিয়া (৭০)সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নিহতের দুই ছেলে মনিরুল আলম ও শাকেরের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া মনিরুল আলমের স্ত্রী ও তার দুই সন্তানকেও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, মনিরুল আলম ও শাকের সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের পিতা কালা মিয়াকে তিনদিন ধরে লুকিয়ে রেখে বেধড়ক মারধর করেন। গতকাল এলাকাবাসী গিয়ে একটা বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।
সাবরাং আলীর ডেইল এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা বিএনপির সদস্য সুলতান আহমদ বি.এ. বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে যতটুকু জেনেছি, মনিরুল আলম ও শাকের দুই ভাই সম্পত্তির লোভে তাদের পিতাকে লুকিয়ে রেখে মারধর করে। মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন।
তিনি আরও জানান, মনিরুল আলমের ভাগিনা জাহের হোসেনের বাড়িতে নিহত কালা মিয়াকে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পত্তি না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “আমি আমার একটি জমি আমার স্বামীকে হেবা দিয়েছিলাম। সেই জমি নেওয়ার জন্য মনিরুল আলম ও শাকের আমার স্বামীকে লুকিয়ে রেখে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর আগে কালা মিয়া তাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে মনিরুল আলম তার বুকে ঘুষি মেরেছেন এবং শাকের তার গলা চেপে ধরেছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, তাদের কারণে তিনি সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেবেন।
পরে গুরুতর অবস্থায় কালা মিয়াকে বাড়ি থেকে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মনিরুল আলমের স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান,“ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। মৃত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে।”