শিরোনাম :
টেকনাফে লবণবোঝাই ট্রাকে প্রায় ১ লাখ ইয়াবাসহ হেলপার ও লবণের মালিক আটক টেকনাফে লবণবাহী ট্রাকে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ টেকনাফে লবণবাহী ট্রাকে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ টেকনাফে দুর্ধর্ষ অভিযানে শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মাঝি গ্রেফতার ৭ হাজার ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক টেকনাফে যৌথ অভিযানে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট গোলাবারুদসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মাদক ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার পুনরায় শুরু হলো টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার কার্যক্রম দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্য চালু টেকনাফের বাহারছড়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিংড়ি রেণু জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

উখিয়া-টেকনাফ আসনে নির্বাচনী মাঠ সরগরম : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কয়েকজন প্রার্থীর

মোহাম্মদ তোফাইল টেকনাফ / ১৪১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ সরগরম।

গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এই আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটের মাঠ জমে উঠেছে, একই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক হুইপ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী,তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হক হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
“ভোটার সংখ্যা ও পরিসংখ্যান”
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া–টেকনাফ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন।

উখিয়া উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৮৯ হাজার ১০৮ জন, নারী ভোটার ৮৩ হাজার ৭৯৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।

টেকনাফ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৬৯৮ জন, নারী ভোটার ৯৯ হাজার ৮০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
এই সীমান্ত আসনে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি রয়েছে গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে প্রায়ই সন্ত্রাস, অপহরণ, মানবপাচার ও ইয়াবার বড় বড় চালানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও কিছু রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর হাতে থাকা ভারী অস্ত্র নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় ব্যবহৃত হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেভাগেই তৎপর শুরু করেছে । নির্বাচনী এলাকাজুড়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। একে অপরের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ।

তবে ভোটের মাঠে মূলত দুই প্রার্থীকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তারা জনগণকে দিচ্ছেন উন্নয়ন ও নিরাপত্তার আশ্বাস।

জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন,“উখিয়া–টেকনাফ একটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনো সময় অবনতি হতে পারে। তাই নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।”

তিনি আরও আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে বন্দর, করিডোরসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার খুলে দেওয়া হবে এবং কোনো সিন্ডিকেট থাকতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন,“উখিয়া–টেকনাফের করিডোর, বন্দর, কলেজ, সড়ক ও জেটিসহ অধিকাংশ উন্নয়ন বিএনপি সরকারের আমলেই হয়েছে। বিভিন্ন কারণে সেগুলো এখন বন্ধ। এবার আবার আপনারা আমাদের নির্বাচিত করলে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও চিকিৎসা কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি উখিয়া–টেকনাফে অবস্থানরত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—যে দল বা প্রার্থী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে, উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিতে পারবে এবং উখিয়া–টেকনাফের সামগ্রিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবে, তাদেরকে জনগণ ভোট দিবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!