শিরোনাম :
টেকনাফে অনুমোদনহীন কসমেটিকস বিক্রি, দুই দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে ১৪ লাখ ইয়াবার বৃহৎ চালান জব্দ, আটক ২ টেকনাফের শাপলাপুরে র‌্যাবের অভিযানে নিখোঁজের দুদিন পর দুই ভিকটিম উদ্ধার প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ দৌল্লাহ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: মালয়েশিয়ায় পাচারের আগেই ৫ ভিকটিম উদ্ধার নাফ নদীর বুকে ঝুঁকিপূর্ণ জেটি, ২৩ বছরেও হয়নি সংস্কার টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষোভ রক্ত দেবো তবু এলাকা ভাগ করতে দেবো না : এলাকা দ্বিখণ্ডিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচার, ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ইমরান আটক টেকনাফ ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড-কানুনগো পদ শূন্য দীর্ঘদিন কর্মকর্তা না থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ

টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক / ৫৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর রোববার থেকেই বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, টেকনাফের ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকদের অনেককেই যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ফলে কমিটিটি কতটা প্রতিনিধিত্বশীল এবং ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা পূরণে কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাইয়ুম। তাঁর বক্তব্য, টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থেকে খেলাধুলার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ক্রীড়া সংস্থাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সব খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকের জন্য উন্মুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খেলোয়াড় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে যারা কাজ করছেন, তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে থাকা দরকার, যারা মাঠের ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে জানেন এবং খেলোয়াড়দের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা রাখেন। তিনি বলেন, কমিটি নিয়ে যদি ক্রীড়াঙ্গনের বড় একটি অংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে হলে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সক্রিয়তার ভিত্তিতে ক্রীড়া সংগঠকদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। তাঁর মতে, ক্রীড়া সংস্থা শুধু একটি কমিটি নয়; এটি উপজেলার খেলোয়াড়দের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও নতুন প্রতিভা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই কমিটি নিয়ে যেন কোনো পক্ষের মধ্যে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।

টেকনাফ উপজেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ হেলাল উদ্দিন বলেন, একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো মাঠে খেলার সুযোগ, ভালো প্রশিক্ষণ এবং প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন। ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে মাঠের খেলোয়াড় ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হলে টেকনাফের ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা আরও এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

উপজেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেহেদী হাসান বলেন, টেকনাফে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন, কিন্তু তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ প্রয়োজন। ক্রীড়া সংস্থার কমিটি যদি খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে এবং মাঠের মানুষদের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হবে। তিনি কমিটি নিয়ে সবার মতামত বিবেচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানান।

নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধি রুবায়েত হোসাইন বলেন, টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গন শুধু খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁর মতে, সীমান্তবর্তী টেকনাফে খেলাধুলার পরিবেশ শক্তিশালী করা গেলে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। তাই ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যোগ্য, সক্রিয় ও মাঠপর্যায়ের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নিরাপদ সীমান্ত ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

 

অন্যদিকে, উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মিন্টু বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে এর সমাধান হওয়া উচিত আলোচনার মাধ্যমে। তাঁর মতে, টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থই সবার আগে। খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়া সংগঠকদের সমন্বয়ে কাজ করা গেলে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন আরও গতিশীল হবে। তিনি বলেন, কমিটি নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোকে নেতিবাচকভাবে না দেখে ক্রীড়ার উন্নয়নের স্বার্থে গঠনমূলকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকনাফে খেলাধুলার উন্নয়নে অবকাঠামো, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরিচর্যার পাশাপাশি ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে সমন্বয়ও জরুরি। গত এপ্রিলেও টেকনাফে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সভা হয়েছে, যেখানে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি অংশ নেন।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে টেকনাফে নতুন একটি ক্রীড়া সংগঠনের পরিচিতি সভায়ও স্থানীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সাবেক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংগঠন ও খেলাধুলা নিয়ে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলমান আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনের সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ক্রীড়া প্রশাসন নিশ্চিত করবে, যার মূল লক্ষ্য হবে খেলোয়াড় তৈরি, ক্রীড়ার উন্নয়ন এবং টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!