কক্সবাজারের টেকনাফ শহরের উপরের বাজার ও লামার বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই কসমেটিকস দোকানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় বিএসটিআই কর্তৃক অননুমোদিত, অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের এসব পণ্য বিক্রি না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টেকনাফ শহরের উপরের বাজার ও লামার বাজারে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনিক চৌধুরী। এ সময় বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে উপরের বাজারের ফরিদ মার্কেটে অবস্থিত ‘রোমান্টিক গ্যালারি টেকনাফ’ দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে কর ফাঁকি দিয়ে আনা পাকিস্তানি পণ্য এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন স্কিন ক্রিম ফোর-কে, গোরী স্পটলেস বিউটি ক্রিম, চাঁদনী হোয়াইটেনিং ক্রিম, ডিউ হোয়াইটেনিং ক্রিম, গোল্ডেন পার্ল বিউটি ক্রিম, ফাইজা বিউটি ক্রিম, নূর হারবাল বিউটি ক্রিম ও হোয়াইট ফেস বিউটি ক্রিম মজুত রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, টেকনাফ বার্মিজ মার্কেটের ‘আনকম স্টোরে’ অভিযান চালিয়ে গোরী স্পটলেস বিউটি ক্রিম, নূর হারবাল বিউটি ক্রিম, ফোর-কে প্লাস হোয়াইটেনিং নাইট ক্রিম ও ড. রাসেল হোয়াইট স্কিন নাইট ক্রিম বিক্রির অভিযোগে আরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে দুই দোকানের বিরুদ্ধেই তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে।
এ ছাড়া অভিযানের সময় কাঁচা তরকারির দোকান, মুরগির দোকান, বিভিন্ন স্টোর, মুদির দোকান ও স্বর্ণালংকারের দোকান পরিদর্শন করা হয়। দোকানগুলোতে ব্যবহৃত মাপের মিটারও পরীক্ষা করা হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনিক চৌধুরী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। অভিযানের সময় তিনি ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়নের জন্য দুই দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট দোকান সিলগালা করার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। এ সময় মুদির দোকানগুলোতে পণ্যের নির্ধারিত মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জরিমানা করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, ভবিষ্যতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর বা অনুমোদনবিহীন কসমেটিকস পণ্য বিক্রি করা যাবে না। এসব পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা অভিযানের সময় অননুমোদিত ও নিম্নমানের কসমেটিকস পণ্য ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলো ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরেন।
ইউএনও এসএম অনিক চৌধুরী জানান, বাজারে পণ্যের মান, মূল্য, ওজন ও বৈধতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।