কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহাজাহান চৌধুরী কর্তৃক দায়ের করা ১ শত কোটি টাকার মানহানি মামলায় কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য,সুলতান আহমদ বি এ ও সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ইমাম হোসেনের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, মামলার অভিযোগ ও নথিপত্র পর্যালোচনায় বেশ কিছু আইনগত ও বাস্তব অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে, বাদীর অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী আসামিদের বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনামূলক বলে প্রতীয়মান হয়।
আইনজীবীরা বলেন, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় এ পর্যায়ে মামলার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না করে বিজ্ঞ আদালত ও আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখছেন তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমালোচনা, মতামত বা রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫ ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ধারায় বর্ণিত নির্দিষ্ট আইনগত উপাদানগুলো আসামিদের কর্মকাণ্ডে পূরণ হয়েছে কি না, সেটিই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এ সময় আসামিপক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ নিয়ে যে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপটে সেই অভিজ্ঞতাও আইনগতভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক আইন যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হলে প্রকৃত সত্য আদালতের সামনে প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে তারা ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তরা খালাস পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে মামলাটি বিচারাধীন হওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা বা আসামিদের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আসামিপক্ষ জানিয়েছে, তারা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছেন।