কক্সবাজারের টেকনাফে প্রথমবারের মতো জেলার ও উপজেলার সব প্রধান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে কঠোর ও সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম (জি), কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেল মণ্ডল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় টেকনাফের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড়ে চিরুনি অভিযান পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি টেকনাফবাসীর নিরাপত্তা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভা সূত্রে জানা যায়।
এ সময় বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড, এপিবিএন, বন বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী টেকনাফে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
প্রধান অতিথি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “টেকনাফে মাদক, অপহরণ, মানবপাচার, ইয়াবাসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। টেকনাফকে শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমনে এখন থেকে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।”