কক্সবাজারের টেকনাফে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে সোমবার সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ও দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্পদ ফেলে যেতে না চাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া, সাবরাং, নয়াপাড়া, টেকনাফ সদরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গভীর সাগরে না যেতে এবং উপকূলীয় এলাকার সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে যেতে পারছেন না।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যও তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেকেই এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।