বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকা সত্ত্বেও টেকনাফ থেকে তিনটি কাঠের সার্ভিস ট্রলারে করে প্রায় ১৪০ জন যাত্রী ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের কায়ুকখালী নৌঘাট থেকে ট্রলারগুলো যাত্রা শুরু করে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে টানা ১০ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় চিকিৎসা, কেনাকাটা ও অন্যান্য জরুরি কাজে মূল ভূখণ্ডে এসে আটকে পড়েছিলেন সেন্ট মার্টিনের বহু বাসিন্দা। দীর্ঘদিন হোটেল ও স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিজ গন্তব্যে পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও ট্রলারে করে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সেন্ট মার্টিনের প্রায় ৩০০ পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তাও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।
টেকনাফ কায়ুকখালী নৌঘাটে সেন্ট মার্টিন সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা মো. জুবাইর বলেন, “আটকে থাকা যাত্রীদের ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সবাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবেন বলে আশা করছি।”
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজা আক্তার জানান, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমেই আটকে থাকা বাসিন্দাদের ট্রলারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দোয়া করি সবাই যেন নিরাপদে পৌঁছান। আমাদের সেন্ট মার্টিনের মানুষের কষ্ট কেউ বোঝে না। কাজ নেই, আয় নেই—অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘদিন পরিবারের বাইরে আটকে থাকা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আর্থিক দুর্ভোগের কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেন্ট মার্টিনের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।