কক্সবাজারের টেকনাফে দমদমিয়া জাহাজঘাট পুনরায় চালু করে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় যুবসমাজ, সিএনজি সমবায় মালিক সমিতি, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দমদমিয়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা দমদমিয়া জাহাজঘাট দ্রুত খুলে দিয়ে সেন্টমার্টিনে আগের মতো জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টেকনাফের দমদমিয়া জাহাজঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করত। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে ২০২৩ সালের দিকে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এ রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, জাহাজঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সিএনজিচালক, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবিকা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বেকারত্ব বাড়ছে। এতে যুবসমাজের একটি অংশ হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নতুন সরকার টেকনাফ স্থলবন্দর খুলে দিলেও দমদমিয়া জাহাজঘাট পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় তাঁরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁদের মতে, জাহাজঘাটটি চালু করা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে এবং পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
পর্যটকদের ব্যয় কমাতে ঘাট চালুর দাবি
বক্তারা আরও বলেন, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে একজন পর্যটকের প্রায় সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। অন্যদিকে, টেকনাফের দমদমিয়া জাহাজঘাট চালু থাকলে দুই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে যাতায়াত করা সম্ভব হতো বলে তাঁদের দাবি। এতে পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যয় কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হতো।
তাঁদের অভিযোগ, দমদমিয়া ঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন,একটি সিন্ডিকেট মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফায়দা নেওয়ার জন্য দমদমিয়া জাহাজ ঘাটটি ষড়যন্ত্র করে বন্ধ করে দিয়েছিল। এই জাহাজ ঘাটটি ছিল দমদমিয়া মানুষের জীবন জীবিকার একমাত্র মাধ্যম। সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন দ্রুত এ জাহাজ ঘাটটি খুলে দিলে এখানকার মানুষের অনেক উপকার হবে একই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান
কর্মসূচি থেকে দমদমিয়া জাহাজঘাট পুনরায় চালু, সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করা এবং বেকার যুবক ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দমদমিয়া জাহাজঘাট শুধু সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের একটি পথ নয়; এটি টেকনাফের অসংখ্য মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং পর্যটন খাতকে গতিশীল করতে ঘাটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমাদের কর্মসংস্থান আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে, দমদমিয়া জাহাজঘাট পুনরায় চালু করতে হবে—এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।”