টেকনাফ বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাল্টা ও কমলার দাম বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। আগে প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে একই মাল্টা ও কমলা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু টেকনাফ বাজারেই নয়, সারা দেশেই মাল্টা ও কমলার দাম বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ফল দুটির সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে যেখানে তারা ১০ কাটুন মাল্টা ও কমলা কিনতে পারতেন, বর্তমানে সেখানে মাত্র দুই কাটুন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে তাদের পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে ক্রয়মূল্য সমন্বয় করে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে যে পরিমাণ মাল্টা ও কমলা আমরা কিনতে পারতাম, এখন তার তুলনায় অনেক কম পণ্য পাচ্ছি। সরবরাহ কম থাকায় আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
এদিকে হঠাৎ করে মাল্টা ও কমলার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম এমনিতেই বাড়তি। এর মধ্যে ফলের বাজারেও যদি এভাবে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়বে।
এক ক্রেতা বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও যে মাল্টা ও কমলা ১৮০ টাকা কেজিতে কিনেছি, এখন সেটিই ৬০০ টাকা। এত অল্প সময়ে প্রায় তিনগুণ দাম বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি ফলমূলের দামও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।”
ক্রেতাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে বাজার মনিটরিং জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ করে মাল্টা ও কমলার এমন মূল্যবৃদ্ধিতে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে ফল দুটির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।