নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সুপেয় পানি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এক পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন মাসফিকুল হাসান টনি। ঢাকার পাঁচ নদীর মুখ থেকে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ ২২ দিনে প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছেছেন দেশের সর্বদক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে।
দীর্ঘ এই পথচলায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের
মানুষের জীবন-জীবিকা, সুপেয় পানির সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পর্যাপ্ত ব্যবহার না থাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে আশপাশের কৃষিজমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।
তিনি বলেন, “আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সুপেয় পানি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। সারা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে হাঁটার সুযোগ হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় উপকূলের মানুষের নানা সংকট খুব কাছ থেকে দেখেছি।”
এই পদযাত্রা অবশ্য সহজ ছিল না। ২২ দিনের দীর্ঘ যাত্রায় তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ। কখনো ভয়ংকর সড়ক, কখনো বনজঙ্গল—বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। পথ চলতে গিয়ে একাধিকবার জীবনহানির আশঙ্কার মুখেও পড়েছেন বলে জানান টনি।
তার ভাষায়, “হাঁটার পেছনে আমাকে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। অনেক ভয়ংকর রাস্তা দিয়ে হেঁটেছি। এমনকি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। বনজঙ্গলের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় হিংস্র প্রাণীর মুখোমুখিও হতে হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত শাহ পরীর দ্বীপে পৌঁছাতে পেরেছি।”
টনির এই পদযাত্রা শুধু দীর্ঘ পথ অতিক্রমের গল্প নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির সংকট এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ। তার এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের বাস্তবতা এবং জলবায়ু সংকটের বিষয়গুলো আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরতে চান।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, কৃষি ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাবসহ নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং উপকূলীয় মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মাসফিকুল হাসান টনি।
২২ দিনের এই ৭৮৩ কিলোমিটারের পদযাত্রার মধ্য দিয়ে তার বার্তা একটাই—পরিবেশ রক্ষা, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অধিকার নিশ্চিত করে একটি জলবায়ু-ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।