কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত উপজেলা ঘোষণা উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘নতুন কুঁড়ি’ বিজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়াম কক্ষে উপজেলা প্রশাসন, টেকনাফের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. অনীক চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. তাহের, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এনামুল হক,উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের ভয়াবহতা তুলে ধরে শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি শুধু একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং তার ভবিষ্যৎ জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। একইভাবে শিশুশ্রম শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই শিশুদের শ্রমে না দিয়ে বিদ্যালয়মুখী করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এবং জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘নতুন কুঁড়ি’র বিজয়ীদের হাতে সংবর্ধনা ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল— “বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ” এবং “আমার উপজেলা, আমার দায়িত্ব—আমার উপজেলা হবে শিশুশ্রমমুক্ত।”
আয়োজকরা জানান, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বন্ধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব। টেকনাফকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টেকনাফকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত উপজেলা ঘোষণার এ উদ্যোগ শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।