শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টার পর বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রধান ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ১০টার আগে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে না পারায় তাদের জন্য ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইনকে ফটকের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি দেরিতে বিদ্যালয়ে আসায় শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন এবং বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন তারা নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে এসেছে, তা জানতে চান। তবে ওইদিন মানবিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে ভবিষ্যতে আর দেরি না করার জন্য সতর্ক করে দেন তিনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ১০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে প্রবেশের নির্ধারিত সময়সীমা। সকাল ১০টা ১ মিনিট হলেই প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। একই নিয়ম শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইন বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নিয়ম চালু করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে সকাল ১০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হবে। সকাল ১০টা ১ মিনিট হলে আর বিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে আসার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও যারা দেরিতে আসছে, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন এ সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে নিয়ম চালুর প্রথম দিনেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যাওয়ায়, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।