কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকায় জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্র সাইফুল ইসলাম (২৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিহতের পরিবার।
নিহত সাইফুল ইসলাম পুরানপাড়া এলাকার হাফেজ মুক্তার আহমদের ছোট ছেলে।
গতকাল শনিবার বিকাল ৪ টার সময় চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের সাইফুল ইসলামের বড় ভাই হাবিবউল্লাহ জানান, চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন ছিল। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তার চাচা মৌলবি জহির আহমদ এবং তার ছেলে ইসমাইল, ইসহাক, ইদ্রিস, ইলিয়াস ও ওসামাসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সাইফুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বাবা হাফেজ মুক্তার আহমদ বলেন, তার ছেলে সাইফুলকে ইদ্রিস লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সাইফুল ইসলাম শান্ত স্বভাবের একজন যুবক ছিলেন। সম্প্রতি তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা (কাবিন) সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের আগেই পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।
নিহতের বোনও কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভাই হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ মিত্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, “কক্সবাজার সদর থানা থেকে আমরা একটি বার্তা পেয়েছি যে, সাইফুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তি হাসপাতালে নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”