বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন।দ্বীপের প্রতিবেশ ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে দুই দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে পরিবেশ দূষণ ও বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের দায়ে একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁকে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ১৯ জানুয়ারি রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযানের প্রথম পর্ব পরিচালিত হয়। এ সময় সেন্টমার্টিন দ্বীপের মূল সৈকত এলাকায় প্লাস্টিক পোড়ানো, জেনারেটরের অতিরিক্ত শব্দ এবং অনিয়ন্ত্রিত আলোকসজ্জার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব কর্মকাণ্ড সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজনন ও স্বাভাবিক জীবনচক্রে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে নীল দিগন্ত রিসোর্টকে ৩০ হাজার টাকা, লুই পাস হোটেলকে ৫০ হাজার টাকা, সেন্ট কেসেল হোটেলকে ৫০ হাজার টাকা এবং সূর্য স্থান হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রথম দিনের অভিযানে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫, হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৪(১) ধারার প্লাস্টিক ব্যবহার বিধান প্রয়োগ করা হয়।
এদিকে, ২০ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের অভিযান পরিচালিত হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
হোটেল ফ্যান্টাসি, কোরাল হেডজ বীচ রিসোর্ট, হোটেল অবকাশ, আপ্যায়ন রেস্তোরা ও দি আটলান্টিক হোটেল পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা, কঠিন বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ, স্তুপকৃত প্লাস্টিক পোড়ানো, উচ্চ শব্দে জেনারেটর ব্যবহার, রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন এবং হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অপরাধের দায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, বায়ু দূষণ বিধিমালা ২০২২, শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০২৫ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় ৮টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত ভাবে অব্যাহত থাকবে