দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। পেশাদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে র্যাব দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে র্যাব-১৫, কক্সবাজার নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ জুলাই আনুমানিক দুপুর ১:১০ ঘটিকায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের উখিয়া দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে জনৈক শহীদুল্লাহ জমিলুর বিউটি হার্ডওয়্যার দোকানের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে।
এসময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশাকে থামানোর সংকেত দিলে চালক ও আরোহীরা সংকেত অমান্য করে সিএনজি রেখে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। র্যাব সদস্যরা তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে ০৩ জন মাদক কারবারিকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তাদের সঙ্গে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে নীল রঙের ৫০টি এয়ারটাইট পলিপ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১,০০০ পিস করে সর্বমোট ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলোঃ ১। নুরুল হাকিম (২৮), পিতা- নাজির হোসেন, মাতা- সোনা মেহের, সাং- পাতা বাড়ি কাঠাল বাগানপাড়া, ৪নং ওয়ার্ড, থানা- উখিয়া, জেলা- কক্সবাজার। ২। মো. ইদ্রিস (৪৮), পিতা- মৃত রশিদ আহম্মেদ, মাতা- সামছুন নাহার, সাং- পাতা বাড়ি উত্তর পাতাবাড়ি পাড়া, ৪নং ওয়ার্ড, থানা- উখিয়া, জেলা- কক্সবাজার। ৩। শামসুল আলম (২৪), পিতা- মো. কাশেম, মাতা- হাজেরা খাতুন, সাং- মধুরছড়া পোলিয়াপাড়া, ৬নং ওয়ার্ড, থানা- উখিয়া, জেলা- কক্সবাজার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত সিএনজি ও অন্যান্য আলামতসহ উখিয়া থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।