টেকনাফ–উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় অপহরণ, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও জননিরাপত্তা সংকটের প্রতিবাদে আজ (সোমবার) দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত টেকনাফ ও উখিয়ার শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এর আগে গতকাল (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন (টেকনাফ–উখিয়া)’এর প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্দোলনের পক্ষ থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার দাবিগুলো মনোযোগসহকারে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আসন্ন সভায় টেকনাফ–উখিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্দোলনের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করবেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং টেকনাফে বিজিবির আরও একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে তিনি প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে আন্দোলনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসায় অধ্যয়নরত টেকনাফ ও উখিয়ার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করবেন।
আন্দোলনের প্রচার ও গণমাধ্যম সেলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় অপহরণ, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঘোষিত ৬ দফা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্দোলনের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের ইতিবাচক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় টেকনাফ–উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।