কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ ও নতুন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার সময় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিক্ষোভ মিছিল টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুদ্ধ জনতা।
স্থানীয়রা জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভা শুরুর আগেই কিছু লোক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে একদল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এতে পরিষদের দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।
জানতে চাইলে মানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহের বলেন, “সভার প্রস্তুতির সময় কিছু লোক স্লোগান দিতে দিতে সেখানে জড়ো হয়। পরে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাজালাল চৌধুরী বলেন, “বৈঠক চলাকালে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। তারা ইউনিয়ন পরিষদের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। হামলায় আমিও আহত হয়েছি”।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনাইদ আলী অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন না। খবর দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী বলেন, “হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে”।