গলায় ব্যান্ডেজ, হাতে স্লিং আর মুখে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার গল্প—সব মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছিল তারা অসুস্থ রোগী। চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার যাচ্ছেন বলেই ধারণা করেছিলেন অনেকে। তবে সেই ‘রোগী’ পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান।
রোববার সকালে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে তিন নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ওই তিন নারীকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় তিন নারী নিজেদের অসুস্থ রোগী হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের কারও গলায় ব্যান্ডেজ ঝোলানো ছিল, আবার কারও হাতে ছিল স্লিং।
তবে আচরণে সন্দেহ হওয়ায় নারী সদস্যদের মাধ্যমে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। এতে তাদের দেহে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আটক তিন নারী উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে প্রায়ই অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত তল্লাশির কারণে এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।