
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পেন্ডেল পাড়া এলাকায় উচ্চ ফলনশীল জাতের শসা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষক মুক্তার আহমদ ও মো. ইয়াসিন। অনুকূল ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষক মুক্তার আহমদ জানান, তিনি প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ফল ও ফসল চাষ করে থাকেন। এ বছর চাষ করেছেন হাইব্রিড জাতের শসা। ভালো ফলন ও বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি শসা বিক্রি করেছেন তিনি। সামনে আরও শসা বিক্রি করে ভালো আয়ের আশা করছেন এই কৃষক।
মুক্তার আহমদ বলেন, “প্রতিবছর কোনো না কোনো ফলের চাষ করি। এ বছর শসা চাষ করেছি। শসা বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি কিছু টাকা জমাও করতে পেরেছি। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হয়েছে। সামনে আরও বিক্রির আশা করছি।”
একই এলাকার কৃষক মো. ইয়াসিনও বড় জাতের শসা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তাঁর জমিতে শসার ফলন ভালো হয়েছে এবং শসাগুলো আকারেও বেশ বড়। ভালো দাম পাওয়ায় চার দফায় শসা বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় করেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়ভাবে শসা চাষে এমন সাফল্য কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। কৃষকেরা মনে করছেন, ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে শসা চাষ তাঁদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ভালো ফলন সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনের সময় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় শসা চাষের পরিচর্যা ও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, টেকনাফে কোনো ধরনের সারের ঘাটতি নেই। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ সার সরবরাহ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, কৃষকরা যদি সার না পেতেন, তাহলে এত ভালো ফলন কীভাবে হতো?
তবে কৃষকদের মধ্যে সারের প্রাপ্যতা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরেজমিনে যাচাই করে দেখা হবে।
All rights reserved © 2025 SaibalNews.Com
Developed By: Azad Web IT