
মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদীতে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাল থেকে শুরু হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে মাছ ধরার পাশাপাশি ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে জীবিকা নির্বাহে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলেদের অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার জেলেরা জানান, বছরের এই সময়ে ইলিশ আহরণ তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে নৌকা ও জাল নিয়ে সাগরে যেতে না পারায় আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। অনেক পরিবারের ঘরে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।
জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাসময়ে তাদের হাতে পৌঁছায় না। ফলে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার সুযোগ বন্ধ থাকলে বিপুলসংখ্যক ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেদেরই লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইলিশের প্রজনন ও দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের মানবিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন জেলেদের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে মা ইলিশ রক্ষার উদ্যোগও আরও সফল হবে।
All rights reserved © 2025 SaibalNews.Com
Developed By: Azad Web IT