
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীর ওপর নির্মিত ৫৫০ মিটার জেটিটি দীর্ঘ ২৩ বছরেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জেটিটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেটিনির্ভর ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্যোগ কিংবা ভূমিকম্প হলে দুর্বল হয়ে পড়া জেটিটির বড় অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জেটিটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নাফ নদীর ওপর ৫৫০ মিটার দীর্ঘ শাহপরীর দ্বীপ জেটিটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই এটি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে শাহপরীর দ্বীপের এই জেটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন। পাশাপাশি দ্বীপের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও জেটিটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জেটি ব্যবহার করে স্পিডবোটে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে মানুষের চলাচল হয়ে থাকে। একসময় এই জেটি দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে করিডোরও চালু ছিল। জেটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করতেন।
তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে জেটিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ নাজুক হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ পিলার ও রেলিং। কোথাও কোথাও চলাচলের স্ল্যাবও ভেঙে গেছে। ফলে জেটিতে চলাচল করতে গিয়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেটিটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, শাহপরীর দ্বীপের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত। জেটিটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা পর্যটকদের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি দ্বীপের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বড় কোনো দুর্যোগের আগে জেটিটি সংস্কার করা না হলে এটি পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি, জেটিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জেটিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা আলা উদ্দিন খাঁন বলেন, ২ কোটি ১০ লাখ টাকায় নির্মিত শাহপরীর দ্বীপের জেটিটি জেলা পরিষদকে ২০০৪ সালে হস্তান্তর করা হয়েছে। তখন থেকে জেটি সংস্কার ও দেখভালের দায়িত্ব তাদের (জেলা পরিষদের)। তবে জেটি সংস্কারের জন্য বিগত বছরগুলোতে কোন ধরনের ব্যবস্থা না থাকলেও বর্তমানে সরজমিন পরিদর্শন করে জেটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত জেটি সংস্কারের জন্য অনুমোদন পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. অনীক চৌধুরী জানান, জেটিটি সংস্কারের দায়িত্ব জেলা পরিষদের। জেটিটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা পরিষদকে অবগত করা হয়েছে। অতি দ্রুত জেটিটির সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
All rights reserved © 2025 SaibalNews.Com
Developed By: Azad Web IT