
কক্সবাজারের টেকনাফে লবণবোঝাই ট্রাকের আড়ালে ঢাকায় পাচারকালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান জব্দ করেছে র্যাব-১৫। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১ লাখ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার ও লবণের মালিককে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন,ট্রাকের হেলপার কাদের এবং সাবরাং এলাকার বাসিন্দা ও লবণের মালিক নুর মোহাম্মদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব, যদিও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লবণবোঝাই একটি ট্রাক থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুজ্জামান এবং স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা।
র্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদ পেয়ে জানতে পারি যে সীমান্তঘেঁষা সাবরাং এলাকা দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র লবণবোঝাই ট্রাক ব্যবহার করে ইয়াবার বড় চালান ঢাকায় পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ট্রাকটিকে থামায়।
প্রাথমিক তল্লাশিতে কিছু না মিললেও পরে ট্রাক থেকে লবণ নামানোর সময় সন্দেহজনক দুটি বস্তা শনাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকশো মানুষের উপস্থিতিতে বস্তা দুটি খুলে দেখা যায়, লবণের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা।
র্যাব-১৫ এর স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানান, “মাদক কারবারিরা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ব্যবহার করছে। লবণের চালানের ভেতরে ইয়াবা লুকানোর ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলেন, “টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম এলাকা এবং পণ্যবাহী পরিবহনকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় রয়েছে একাধিক মাদক সিন্ডিকেট। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে পাচারকারীরা কৌশল পাল্টে আরও গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করছে।”
তিনি বলেন “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের মাদক পাচারকারীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দ ট্রাক ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধার হওয়া ইয়াবা চালানের মাস্টারমাইন মাদক কারবারি ডেগিল্যার বিল এলাকার দুবাই কালুর ছেলে হোছন ও বদি আলম বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত মাদক পাচার শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, তরুণ সমাজের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
All rights reserved © 2025 SaibalNews.Com
Developed By: Azad Web IT