কক্সবাজার জেলার টেকনাফে সক্রিয় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত শীর্ষ মানব পাচারকারী শাকের মাঝি (৪০) ও আব্দুল আমিন (৫০) এদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়াগামী অবৈধ পথে মানুষ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আন্দামান সাগর এলাকায় একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুবে যাওয়া ওই ট্রলারে শাকের মাঝি ও আব্দুল আমিনের মাধ্যমে নেওয়া ১০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিল,যাদের মধ্যে ১০ বছরের শিশু থেকে শুরু করে তরুণ,যুবক কেউই রেহাই পায়নি।
মানব পাচারকারীদের পরিচয়,আব্দুল আমিন (৪০) সাবরাং ২ নং ওয়ার্ড আলীর ডৈইল এলাকার বাসিন্দা।
শাকের মাঝি (৪৫) সাবরাং ১ নং ওয়ার্ড মুন্ডার ডেইল এলাকার বাসিন্দা। দু'জনেই টেকনাফের শীর্ষ মানব পাচারকারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিদেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করছে হাজারো পরিবারের সন্তান।
সাবরাং সিকদারপাড়ার মদিনা বেগম অভিযোগ,তার স্কুলপড়ুয়া ছেলে সাদেক হোসেন (১৭)-কে গত ৩ এপ্রিল আব্দুল আমিন নিজ বাড়ি থেকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যান।এরপর থেকে ছেলে তার নিখোঁজ।
মদিনা বেগম আরো জানান, পরে আব্দুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে আশ্বস্ত করেন, কিন্তু পরে দাবি করেন তার ছেলে মহেশখালীর ডাকাতদের হাতে আটক রয়েছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে। সন্তানকে ফিরিয়ে আনার জন্য ধার করে আড়াই লাখ টাকা দিলেও এখনো ছেলেকে ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ তার।
মায়ের আকুতি, “আমার ছেলে মরা বা জীবিত—যেভাবেই হোক,আমি আব্দুল আমিনের কাছ থেকে চাই।
একই এলাকার মকগুল আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ হারেছ (১৩)-কেও একই দিনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারগুলোর ধারণা, ট্রলারডুবির ঘটনায় তারাও থাকতে পারে, তবে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
সাবরাং উত্তর নয়া পাড়া এলাকার একজন মায়ের অভিযোগ,তার ছেলে মোহাম্মদ শাহীন গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ,পরে জানতে পারে শাকের মাঝি তার ছেলেকে মালেশিয়া পাচার করে দিয়েছে,সম্প্রতি টলার ডুবির ঘটনায় ছেলের খোঁজে শাকের মাঝির সাথে যোগাযোগ করলে শাকের মাঝি তার সাথে আর কথা বলে না,তার ফোন আর রিসিভ করে না বলে অভিযোগ তার। মায়ের দাবি টলার ডুবির ঘটনায় আমার ছেলেও থাকতে পারে। আমি শাকের মাঝি কাছ থেকে আমার ছেলেকে চাই।
স্থানীয়দের দাবি,এই দুই মানবপাচারকারীর কারণে ইতোমধ্যে শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনো তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা যায়, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে টেকনাফ মানবপাচারের একটি ভয়ংকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাদের ভাষায়,“টেকনাফ ধীরে ধীরে মানবপাচারের অঘোষিত এয়ারপোর্টে পরিণত হচ্ছে।”
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং নিখোঁজদের সন্ধান দাবি করেছে।
All rights reserved © 2025 SaibalNews.Com
Developed By: Azad Web IT